Home / উদ্যোক্তা / ‘আইপি’ ধরে সাইট বন্ধ, বিপাকে উদ্যোক্তা ও সেবাগ্রহীতা

‘আইপি’ ধরে সাইট বন্ধ, বিপাকে উদ্যোক্তা ও সেবাগ্রহীতা

ব্যবহারকারীদের নিরাপদ ইন্টারনেট দুনিয়ার নিশ্চয়তায় জুয়া, পর্নসহ বিপথগামী ওয়েবসাইট বন্ধে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে সরকার। সরকারের এমন উদ্যোগে বিপাকে পড়ছেন ই-কমার্স উদ্যোক্তারা ও সেবাগ্রহীতারা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ‘ঢালাওভাবে’ ইন্টারনেট প্রটোকল বা আইপি ঠিকানা ধরে বিপথগামী সাইট বন্ধ করার কারণে একই আইপির সঙ্গে যুক্ত সাইটও বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এতে ই-কমার্স সাইটসহ বিভিন্ন ওয়েবসাইট বন্ধ হওয়ায় উদ্যোক্তারা যেমন বাধার মুখোমুখি হচ্ছেন, তেমনই ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরাও সংশ্লিষ্ট সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

ভুক্তভোগীরা জানান, সম্প্রতি কিছু পর্ন ও বিপথগামী ওয়েবসাইট ব্লক করে সরকার। এতে মাইক্রোসফটের হালনাগাদ করার কিছু আইপিসহ ই-কমার্স সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান সপিফাইয়ের মূল আইপিটিও বাধার মুখে পড়েছে।

উদাহরণ হিসেবে অভিজিত রায় কাব্য নামে একজন সফটওয়্যার প্রকৌশলী এবং দেশীয় উদ্যোক্তা জানান, আইপি ব্লক করতে গিয়ে অনেক ইন্টারন্যাশনাল ইন্টারনেট গেটওয়ে (আইআইজি) অপারেটরগুলো মাইক্রোসফট উইন্ডোজের হালনাগাদ করার সার্ভারটিই ব্লক করে দিয়েছে। ব্লক করা হয়েছে সপিফাইয়ের আইপি। এতে করে দেশের উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহারকারীরা কোনো আপডেট করতে গেলে বাধার সম্মুখীন হবেন। আর সপিফাই ব্লক হবার কারণে বহু ই-কমার্স ওয়েবসাইটও ক্ষতির মুখোমুখি হবে।

তিনি জানান, মাইক্রোসফটের হালনাগাদ করার সার্ভারের যে আইপিগুলো এই বাধার মুখে পড়েছে তা হলো—20.41.46.145 ও 13.86.125.233 এবং সপিফাইয়ের আইপি হচ্ছে—23.227.38.32।

অভিজিতের দাবি, শুধু এসব আইপি অ্যাড্রেস নয়, খুঁজলে আরও এমন দরকারি আরও ওয়েবসাইটের আইপি পাওয়া যাবে যেগুলো বন্ধ হয়ে গেছে।

দেশে এমন ঘটনা নতুন নয়। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, গত বছরের ডিসেম্বরে এ ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছিল দেশের ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের।

সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়, ওই সময়ে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন কিছু ওয়েবসাইট বন্ধ করে দেয়। এর মধ্যে অন্তত দুটি ওয়েবসাইট ছিল গুগলে হোস্ট করা। ফলে জি-মেইল পরিষেবা পেতে ভোগান্তি পোহাতে হয় ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের।

সংশ্লিষ্টরা যা বলছেন

ফাইবার অ্যাট হোমের প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা (সিটিও) সুমন আহমেদ সাবিরের মতে, উন্নত প্রযুক্তির ফলে বর্তমানে বিপথগামী সাইট বন্ধ করা অনেকটা কঠিন। ঢালাওভাবে সাইট বন্ধ করলে এ ধরনের সমস্যা থেকেই যাবে।

তিনি বলেন, ‘সরকার আইপি ধরে ব্লক করছে। এর ফলে ওই আইপিতে অন্য যেসব হোস্টেড কন্টেন্ট রয়েছে সেগুলো অসুবিধায় পড়ছে। ব্লকিং জাতীয় যখন কোনো কাজ করা হয়ে থাকে, তখন এই ধরনের সমস্যা দেখা যায়।’

এমন সমস্যা সমাধানে এই প্রযুক্তি কর্মকর্তা বলেন, ‘প্রত্যেক দেশের সরকার যদি উদ্যোগ নেয় যে, তারা বিপথগামী কন্টেন্ট হোস্ট করতে দেবে না তাহলে এটি বন্ধ করা সম্ভব। এটি আসলে গ্লোবাল চ্যালেঞ্জ। এসব কন্টেন্ট থেকে পুরোপুরি মুক্তির পথ নেই।’

পর্নমুক্ত এবং নিরাপদ ইন্টারনেটযুক্ত বাংলাদেশ গড়তে প্রতিনিয়ত কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়সহ সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো। সম্প্রতি ২৪৪টি পর্ন ওয়েবসাইট বন্ধ করা হয়। আরও কিছু পর্ন সাইট, জুয়া খেলার সাইট ও বিপথগামী সাইট বন্ধের অপেক্ষায় রয়েছে।

এসব বিষয় নিয়ে জানতে চাইলে ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (আইএসপিএবি) সভাপতি ও অ্যামবার আইটি লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী আমিনুল হাকিম বলেন, ‘অ্যাডাল্ট সাইট যদি ক্লাউডে হোস্টিং করা থাকে তাহলে সেগুলো ব্লক করলে পাশাপাশি কিছু সার্ভিস বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা থাকে।’

তিনি বলেন, ‘এখানে কিছুটা গ্যাপ হয়ে গেছে। আগে আমরা নিজেরা বিষয়টি মেইনটেইন করতাম। এখন ব্লক করতে ফিল্টারিং ডিভাইস বসানো হয়েছে। তারা কীভাবে কাজ করছে তা আমরা জানি না।’

সমাধানের পথ হিসেবে আইপি বন্ধ না করে সুনির্দিষ্ট ইউআরএল বা ‘ডোমেইন নেম’ বন্ধের পক্ষে মত দেন আইএসপিএবির এই সভাপতি।

আমিনুল হাকিম বলেন, ‘যদি সরাসরি ইউআরএল দিয়ে ফিল্টারিং করা যায় তাহলে সমস্যার সমাধান হতে পারে। এর বাইরে তারা যদি আইপি অ্যাড্রেস দিয়ে ফিল্টারিং করে অন্যান্য কিছু সাইট ব্লক হয়েই যাবে। ইউআরএল দিয়ে সাইট বন্ধ করলে আইপি অ্যাড্রেস যেটাই পরিবর্তন হয়ে যাক না কেন, ওই নির্দিষ্ট ডোমেইনটা ব্লক হয়ে যাবে। যদি ডিভাইস ইউআরএল না চেনে তাহলে সেটিকে আইপি অ্যাড্রেস ধরিয়ে দিতে হবে। এতে ওই আইপি অ্যাড্রেসের সঙ্গে যুক্ত সাইট বন্ধ হয়ে যাবে।’

About admin

4 comments

  1. মিজানুর রাহমান

    খুব প্রয়োজনীয় এবং গুরুতপূর্ণ আরতিকেল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *